কোনো সেক্টরে বিজনেস করবেন কি করবেননা তা বুঝবেন যেভাবে

/
/
/
36 Views

আপনি কোনো সেক্টরে বিজনেস করবেন কি করবেননা তা বুঝবেন যেভাবেঃ

ধরলাম আপনি কোনো একটা সেক্টরে নতুন একটা আইডিয়া বা পন্য বা প্রচলিত কোনো পন্য নিয়েই ব্যবসায় করতে চাচ্ছেন। তাহলে আপনার আইডিয়া বা পন্যটা ঐ সেক্টর বা ইন্ডাস্ট্রির জন্য কতটুকু যোগ্য বা উপযোগী এটা বুঝা যে আপনার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ তা নিশ্চয় এই কয়দিন ByteCode  গ্রুপের সাথে থেকে জেনে গেছেন।
যাইহোক, এখন আমরা একটা ব্যপারের সাথে পরিচিত হবো যেটাতে ৫ টা পার্ট রয়েছে যে ৫ টা পার্ট আপনার আইডিয়া বা পন্য ঐ সেক্টরে বা ইন্ডাস্ট্রিতে কতটা সফলভাবে বিজনেস করতে পারবে তা তুলে ধরবে।
এটার নাম হচ্ছে Porter’s 5 Forces Model.
এখানে মূলত আপনি যে সেক্টরে বা ইন্ডাস্ট্রিতে বিজনেস করবেন তার ৫ টা অংশ বিবেচনা করে দেখা হয়। নিচে এগুলো সহজ সাবলীলভাবে আলোচনা করা হলোঃ
1. Rivalry among Existing Competitors: এখানে মূলত আমাদের দেখতে হবে আমরা যে সেক্টরে বিজনেস করবো সে সেক্টরে অলরেডি কারা বিজনেস করছে তাদের সম্পর্কে কয়েকটা প্রশ্নের উত্তর জেনে নিতে হবে। প্রশ্নগুলো হলোঃ
১। এই সেক্টরে অলরেডি কতজন বা কতটা প্রতিষ্ঠান ব্যবসায় করছে?
২। যারা অলরেডি এই সেক্টরে বিজনেস করছে তাদের মধ্যে কেমন বৈচিত্র রয়েছে?
৩। আপনি যে সেক্টরটাতে বিজনেস করবেন তার গ্রোথ কেমন?
৪। এই সেক্টরে যারা বিজনেস করছে তাদের পন্যের মানে পার্থক্য কেমন?
৫। এই সেক্টরে যারা বিজনেস করছে তাদের প্রতি কাস্টমারদের লয়ালটি কেমন?
2. Threat of New Entrants: এখানে মূলত দেখতে হবে নতুন কেউ যদি এ সেক্টরে ব্যবসায় করতে আসতে চাই তাহলে কী কী বাঁধার সম্মুখীন হতে হবে। এক্ষেত্রেও আমরা কিছু প্রশ্নের উত্তর জানতে হবে, যেমনঃ
১। এই সেক্টরে ব্যবসায় করতে আসতে চাইলে প্রধান বাঁধা কী?
২। এই সেক্টরে বিজনেস দিলে কী পরিমান উৎপাদন করলে ইকোনমিজ অব স্কেলে পৌঁছানো যাবে?
৩। এই সেক্টরে বিজনেস করতে গেলে নূন্যতম কী পরিমাণ মূলধন লাগবে?
৪। এই সেক্টরে বিজনেস করতে গেলে রাষ্ট্রীয় কী কী নীতিমালা রয়েছে?
৫। আপনি এই সেক্টরে বিজনেস করতে গেলে আপনি ডিস্ট্রিবিউশন চ্যানেল ইজিলি তৈরি করতে পারবেন কীনা?
3. Bargaining Power of Buyers: এখানে মূলত আমাদেরকে কাস্টমারদের বারগেইনিং করার ক্ষমতা বুঝার জন্য বিভিন্ন দিক দেখতে হবে, অর্থাৎ কাস্টমার দর কষাকষি করে আপনার পন্যের দাম কমানোর ক্ষমতা কতটা রাখে এবং এটার জন্যও আমাদের কিছু প্রশ্ন করতে হবে। যেমনঃ
১। এই সেক্টরে কী পরিমাণ কাস্টমার রয়েছে?
২। একজন কাস্টমারের অর্ডার সাইজ কতটুকু?
৩। এই সেক্টরের কাস্টমারদের পন্য সম্পর্কে জ্ঞান কতটুকু রয়েছে?
৪। পন্যের মূল্য উঠানামার প্রভাব কেমন?
৫। পরিপূরক পন্য কেনার ক্ষেত্রে কাস্টমারদের এবিলিটি কেমন?
৬। এই সেক্টরে কাস্টমার এক পন্য থেকে সুইচ করে অন্য পন্যে যেতে কী পরিমাণ কস্ট হয়?
4. Bargaining Power of Suppliers: এখানে মূলত যারা আপানার পন্য উৎপাদনের কাঁচামাল সরবরাহ করে তারা কাঁচামালের দাম বাড়িয়ে দেয়ার ক্ষমতা কতটুকু রাখে এবং এটার জন্যও আমাদের কিছু প্রশ্ন করতে হবে। যেমনঃ
১। এই সেক্টরে সরবরাহকারীর সংখ্যা কেমন?
২। সাপ্লায়ার বা সরবরাহকারীদের পণ্যের ইউনিকনেস কী?
5. Threat of Substitute Products: সাবস্টিটিউট প্রোডাক্ট বলতে মূলত বুঝায় একটা পন্যকে অন্য পন্য দ্বারা প্রতিস্থাপন করার বিষয়টা। যেমনঃ চা চিনি দিয়ে না বানিয়ে গুড় দিয়ে বানানো যেতে পারে। এক্ষত্রে চিনির সাবস্টিটিউট প্রোডাক্ট হচ্ছে গুড়। সাবস্টিটিউট প্রোডাক্ট সম্পর্কে আমাদের কিছু প্রশ্নের উত্তর বের করতে হবে। যেমনঃ
১। আপনার পন্যের কতগুলো সাবস্টিটিউট প্রোডাক্ট রয়েছে?
২। কাস্টমারেরা আপনার পন্যের সাবস্টিটিউট প্রোডাক্ট গুলোর প্রতি কতটুকু আকৃষ্ট?
৩। সাবস্টিটিউট প্রোডাক্ট এর দামের তুলনায় আপনার পন্যের দাম কেমন?
৪। সাবস্টিটিউট প্রোডাক্টে স্থানান্তরিত হতে কাস্টমারদের কস্ট কেমন?
আজকে এ পর্যন্ত পরবর্তী পর্বে প্রতিটা প্রশ্নের বিস্তারিত বিশ্লেষন দেয়া হবে।

Post Credit: Sopnil Mottafi Billah

  • Facebook
  • Twitter
  • Google+
  • Linkedin
  • Pinterest

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

It is main inner container footer text