img

চারদিকে এত দূর্ঘটনা, আমার কি করা উচিত?

/
/
/
322 Views

Accident

চারদিকে এত দূর্ঘটনা, আমার কি করা উচিত?

বিশেষ করে প্রতিবার ঈদে মোটরসাইকেল দূর্ঘটনার পরিমাণ অনেক বেড়ে যায়। সারা দেশে সরকারী-বেসরকারী মেডিকেলগুলোর রিপোর্ট শুনলে রীতিমত গাঁ শিউরে ওঠে। এসব দূর্ঘটনার পিছনে অন্যতম কারণ অপ্রাপ্ত বয়ষ্ক এবং অপরিণত চালকদের আবির্ভাব। তারা নিজেরা যেমন ক্ষতির সম্মুখীন হয়, ঠিক তেমনি তাদের কারণে অনেকেই হয় ক্ষতিগ্রস্থ। শুধু তাই নয়, ঈদের আমাজে রাস্তা-ঘাটে সব যানবাহন খুব দিশেহারা ভাবে চলাচল করে। সবাই যেন খুব উত্তেজিত আর আনন্দে আত্মহারা। এটাই আরেকটি অন্যতম কারণ এই সব দূর্ঘটনার।

বাইকারদের উচিত ছোট ভাই, বন্ধু, আত্মীয়-স্বজন ইত্যাদি কারো হাতে মোটরসাইকেল তুলে দেবার আগে হাজার বার চিন্তা করা এবং না দেয়াই উত্তম।

এই সব মূহুর্তে বাইক রাইডের সময় অধিক উত্তেজনা পরিহার করা এবং বাড়তি সচেতন থাকা। দূর্ঘটনা শুধু আপনার ভূলের কারণে নয় বরং অন্যের গাফিলতির কারণেও হতে পারে।

সদ্য একটি দূর্ঘটনা বাইকারদের মনে বেশ দাগ কেটেছে। আমি ফাহিম আরিয়ান নামের সেই বাইকার ভাইটির কথা বলছি। রানার নাইট রাইডার বাইক চালাতো, কমিউনিটিতে বেশ এক্টিভ ছিল। দূর্ঘটনায় তার যেদিন মৃত্যু হয়, সেদিনও হেলমেট এবং সেফটি গিয়ার পড়া ছিল। আল্লাহ তাকে বেহেশত নসীব করুন। এই বিষয়টি নিয়ে কিছু বলার নেই আসলে। আর বলাও উচিত নয়।

আল্লাহ যেখানে যার মৃত্যু লিখে রেখেছেন হবে। কিন্তু তাকদীরে বিশ্বাসের সাথে এর মূল বিষয়বস্তুটিও আমাদের জানা উচিত।

একদিন নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দেখলেন যে এক বেদুইন তার উটকে না বেঁধেই চলে যাচ্ছে। তিনি বেদুইনকে জিজ্ঞেস করলেন, “তুমি তোমার উটকে কেন বেঁধে রাখলে না?”

বেদুইন উত্তর দিলঃ “আমি আল্লাহর উপর ভরসা করেছি।” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ “আগে উটের রশি বাঁধ, তারপর আল্লাহর উপর ভরসা কর।” (তিরমিযি)

সুতরাং, এটা থেকেই বোঝা যায়। সেফটি ফার্স্ট এবং সচেতনতার কোন বিকল্প নেই। সচেতনতা আর আল্লাহ’র উপর ভরসাই পারে আমাদের এমন অনাকাংখিত দূর্ঘটনা থেকে বাঁচাতে।

ভাল মানের হেলমেট, প্রোপার সেফটি গিয়ারের কোন বিকল্প নেই। সাথে আমি যে বাইকটি নিয়ে হাইওয়ে রাইড করব বলে ভাবছি তার ব্রেকিং কতটা ভাল মানের তা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে এবিএস এর কোন বিকল্প নেই। বাংলাদেশ সরকারের উচিত অন্যান্য অনেক দেশের মত ১৫০ সিসি’র বাইকে এবিএস বাধ্যতামূলক করে দেয়া। বাংলাদেশে এবিএস খুব কার্যকরী হবে বলে আমরা মনে করি।

এবার আসি কিছু বাস্তব অভিজ্ঞতা আর আমার চোখে দেখা বাইকারদের কিছু বেপরয়া আচরণ।

• কিছু মোটরসাইকেল চালক দেখি যারা ক্লোজ অভারটেকিং খুব পছন্দ করে। কেন ভাই! এই সামান্য কয়েক সেকেন্ড নিজেকে এগিয়ে রেখে কি এমন লাভ। আর এই ক্লোজ অভারটেকিং যদি কোন কারণে সাকসেসফুলী না হয়। তাহলে রাইডারের মৃত্যু প্রায় অনিবার্য। কারণ এই সব দূর্ঘটনা একেবারে মুখোমুখি সংঘর্ষে হয়ে থাকে।

  • • “যত গতি, তত ক্ষতি”, “অধিক গতি সড়ক দূর্ঘটনার অন্যতম কারণ” এই কথাগুলো আমরা সবাই জানি কিন্তু উপলব্ধি করি না। অনেক বাইকার আছেন, নিজের বাইকের টপ স্পীড ফেসবুকে প্রোমোট করে নিজেকে লিজেন্ড সাজানোর চেষ্টা করেন। অনেকে ট্রিট রেস প্রোমোট করে। নিজের সাথে হাজারো তরুণদের ক্ষতির জন্য আপনারাই দায়ী।
  • • সেফটি গিয়ার আছে মানেই আমি ১০০% সেইফ? সম্পূর্ন ভূল ধারণা। নিজে সতর্ক না থাকলে এই সেফটি গিয়ার কোন কাজেই আসবে না। কারণ হাইওয়ে কোন ফাঁকা মটোজিপি ট্র্যাক নয়।
  • • দূর্ঘটনা শুধু আপনার জন্য নয় বরং অন্যের জন্যও হতে পারে। তাই আপনাকে বাড়তি সচেতন থাকতে হবে। যেমন একটা উদাহরণ দেই, মনে করুন আপনি ঢাকা-চিটাগাং হাইওয়ে ওয়ান ওয়ে রাস্তা ভেবে খুব গতিতে বাইক চালাচ্ছেন। বলতে কষ্ট হলেও বলতে হচ্ছে “ভাই এটা বাংলাদেশ, এখানে সব সম্ভব”। উল্টা পথে হটাৎ কোন গাড়ি যে আসবে না, তার নিশ্চয়তা কেউ দেবে না। হ্যা, আপনার কোন দোষ নেই কিন্তু এই দূর্ঘটনার বোঁঝা আপনাকেই বইতে হবে।
  • • জরিপে দেখা গেছে, মোটরসাইকেল দূর্ঘটনায় নিহতের মধ্যে বেশির ভাগ কম বয়সী তরুণ। বাবা-মার উচিত অন্ততঃ ১৮ বছরের আগে কোন ভাবেই সন্তানের হাতে মোটরসাইকেল তুলে না দেয়া।
  • • ড্রাইভিং লাইসেন্স আমরা শুধু করে থাকি, মামলার হাত থেকে বাঁচার জন্য। কিন্তু ড্রাইভিং লাইসেন্স পরিক্ষা থেকে যে অনেক কিছু শেখার আছে, সে বিষয়ে আমরা বেশ গাফেল। ট্রাফিক রুল, রোড সাইন ইত্যাদি জানার কোন বিকল্প নেই। তাই যার ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই, তার হাতে বাইক তুলে দেয়া কোন সুচিন্তিত পদক্ষেপ নয়।
  • এমন আরো অনেক বিষয় আপনার আমার চোখে পড়ে। বিষয়গুলো কমেন্টে জানাবেন।

সর্বোপরি একটা কথাই বলব, দুই চাকা যেমন একটি স্বাধীন যান এবং আবেগের সাথে জড়িত, ঠিক তেমনি জীবনের জন্য হুমকি যদি না আমরা এটিকে সঠিকভাবে ব্যবহার না করি।

নিজেকে বেশি স্মার্ট সাজাতে বা গতি দানব হিসেবে আখ্যায়িত করতে নিজেকে এবং অন্যকে মৃত্যু মুখে ঠেলে দিবেন না।
মনে রাখবেন, বেঁচে থাকলেই আপনি লিজেন্ড, মরে গেলেই তো সব শেষ।

সব সময় নিয়ন্ত্রিত গতিতে বাইক চালাবেন আর এতেই জীবনের আনন্দ খুঁজে নেবেন।

~ লিভ ফ্রী, রাইড সেইফ /. Dewan Sohan ভাইয়ের পোস্ট থেকে!!

এখনো আপনার মনে কোন প্রশ্ন আছে? অথবা আমাদের থেকে কল পেতে চান?

তাহলে নিচের ফরমটি পুরন করুন, আমরা আপনার সাথে যোগাযোগ করবো, ইংশাআল্লাহ! আপনি আমাদেরকে ০১৭১৬ ৯৮৮ ৯৫৩ / ০১৯১২ ৯৬৬ ৪৪৮ এই নাম্বারে কল করতে পারেন, অথবা ইমেল করতে পারেন hi@mahbubosmane.com এই ইমেলে, আমরা আপনাকে কোনভাবে সাহায্য করতে পারলে খুশি হব, ধন্যবাদ ।

মাহবুবওসমানী.কম এর সার্ভিস সমূহঃ

 

  • Facebook
  • Twitter
  • Google+
  • Linkedin
  • Pinterest

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

It is main inner container footer text