Hit enter after type your search item
মাহবুবওসমানী.কম

ডিজিটাল মার্কেটিং ব্লগ

ফাইবার বায়ার রিকোয়েস্টের সকল সমস্যা এবং সমাধান

/
/
/
43 Views
বায়ার রিকোয়েষ্ট নিয়ে বিশেষ করে নতুনদের অনেক কৌতুহল এবং সমস্যা রয়েছে। কারন, এখান থেকেই শুরু হতে পারে একজন নতুন ফাইভার ফ্রিল্যান্সারের পথ চলা। সকলের প্রশ্ন এবং আমার অভিজ্ঞতার আলোকে কিছু প্রশ্ন এবং উত্তর নিয়ে সাজিয়েছি লেখাটি।

১) প্রশ্নঃ বায়ার রিকোয়েষ্ট শো করছে না কেন?

উত্তরঃ নতুন সেলারদের এটি একটি কমন প্রশ্ন। আসলে নতুন সেলারদের ফাইভার একটু আলাদাভাবে দেখে। তাই নতুনদের জন্য বিষয়টি একটু কঠিন হয়ে যায়। যদি আপনি ১-২ টা অর্ডার কমপ্লিট করেন তবে বায়ার রিকোয়েষ্ট শো করা শুরু করবে। তবুও নতুন একাউন্টে যে শো করবে না, বিষয়টি এমন না। তিনটি কাজ ট্রাই করতে পারেন। প্রথমতঃ নতুন সেলার হিসাবে আপনি যে সর্বোচ্চ ৭টি গিগ খুলতে পারবেন, চেষ্টা করুন সবগুলো মানে মোট ৭টি গিগই খুলতে। দ্বিতীয়তঃ আপনি যে গিগগুলো খুলবেন খেয়াল রাখবেন গিগ ক্যাটাগরি এবং সাব ক্যাটাগরি যেন সঠিক হয়। সেই সাথে একটি কিংবা দুটি গিগের সাব ক্যাটাগরি “Others” রাখুন, এটা বেশ কাজে দেবে। তৃতীয়তঃ ঘন ঘন বায়ার রিকোয়েষ্ট সেকশন চেক করুন। বিশেষ করে যখন বায়ারদের একটিভিটি বেশি থাকে তখন চেক করার চেষ্টা করুন। বায়াররা কখন বেশি একটিভ থাকে সেটা জানতে ০৭ নাম্বার প্রশ্নের উত্তর চেক করুন।

২) প্রশ্নঃ বায়ার রিকোয়েষ্ট শো করছে, কিন্তু অফার পাঠাতে পারছি না কেন?

উত্তরঃ যদি নির্দিষ্ট কোনো বায়ারের রিকোয়েষ্টে অফার সেন্ড করতে সমস্যা হয়, তাহলে হতে পারে বায়ার অফার লিমিট সেট করে দিয়েছে এবং লিমিট সংখ্যক অফার সেন্ড হয়ে গিয়েছে। কিন্তু যদি সব বায়ার রিকোয়েষ্টে এমন হয়, তাহলে হতে পারে আপনার প্রোফাইলের পজেটিভ রেটিং ৯০% এর নিচে রয়েছে এবং আপনাকে আগে পজেটিভ রেটিং ৯০% কিংবা তার বেশি করতে হবে। এটা করার জন্য নতুন অর্ডার পেলে সেগুলো সর্বোচ্চ রেটিং মানে ৫ স্টার নিয়ে কমপ্লিট করার চেষ্টা করুন। আর এক্ষেত্রে ভালো কাস্টমার সার্ভিস এবং ভালো কাজের দ্বারা বায়ারকে খুশি রাখার বিকল্প নাই।

৩) প্রশ্নঃ বায়ার রিকোয়েষ্ট আসে, কিন্তু খুব কম। কি করতে পারি?

উত্তরঃ আপনার যদি আরও গিগ খোলার সুযোগ থাকে তাহলে গিগ খুলে ফেলুন। বিশেষ করে যদি আলাদা ক্যাটাগরি কিংবা সাব ক্যাটাগরির কাজ পারেন, তাহলে আলাদা ক্যাটাগরিতে গিগ খুলুন। সেই সাথে বেশি বেশি একটিভ থাকুন। তাছাড়া আপনার লেভেল বাড়ার সাথে বায়ার রিকোয়েষ্ট আরও বেশি পাবেন। সুতরাং বর্তমানে সম্ভাব্য সাজেশনগুলো ফলো করে যতটা বায়ার রিকোয়েষ্ট পাবেন, তাই নিয়ে কাজ করতে হবে।

৪) প্রশ্নঃ আনুমানিক কতজন অফার করার পর ওই বায়ার রিকুয়েষ্টে অফার না করা ভালো?

উত্তরঃ আসলে এমন কোনো বিধি-নিষেধ নেই। তবে হ্যাঁ, খুব বেশি অফার সেন্ড হয়ে গেলে সেখানে আপনার কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা একটু কমে যেতে পারে, যদি বায়ার সব অফারগুলো চেক না করে। তবে ভালো অফার পেলে বেশি অফারের মধ্যেও আপনার কাজের সম্ভাবনা থেকে যায়, তাই আমি বলবো অফার পাঠিয়ে চেষ্টা করুন।

৫) প্রশ্নঃ বায়ার রিকোয়েষ্ট ভালোভাবে পড়ে অফার সেন্ড করতে করতে প্রচুর অফার সেন্ড হয়ে যায়। করনীয় কি?

উত্তরঃ আপনার যদি রিকোয়েষ্ট পড়তে এবং বুঝতে সময় লাগে এবং ভালোভাবে অফার করতে সময় লাগে, আর ততটুকু সময়ের মধ্যে অনেক অফার সেন্ড হয়ে যায় সেটা নিয়ে আপনি বিচলিত হবেন না। কারন, বেশিরভাগ সেলারই জানে না কিভাবে অফার পাঠালে ভালো হয়, তাই তারা যত্রতত্র যা পারে অফার সেন্ড করে দেয়, যেটা বায়ারের নজর কাড়তে পারে না। সুতরাং, এটা নিয়ে না ভেবে আপনি ভালো ভাবে অফার পাঠানোতে মনযোগ দিন।

৬) প্রশ্নঃ কোন সময় বায়ার রিকোয়েষ্ট বেশি পাওয়া যায়?

উত্তরঃ নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব না। কোন দেশের বায়ার কোন টাইমজোন থেকে তার সুবিধামত কখন বায়ার রিকোয়েষ্ট পোষ্ট করবে এটা সম্পূর্ণ বায়ারের উপর নির্ভর করে। কিন্তু নির্দিষ্ট কিছু সময়ে বায়ারদের একটিভিটি বেশি লক্ষ্য করা যায়। রাত ৮.০০ টা থেকে রাত ৩.০০ টা পর্যন্ত এবং ভোর ৬.০০ টা থেকে সকাল ৯.০০ টা পর্যন্ত এই দুই সময়ে বেশি বায়ার একটিভিটি লক্ষ্য করা যায়। সুতরাং, এই দুই সময়ে আপনার সুবিধামত একটিভ থাকতে পারেন।

৭) প্রশ্নঃ প্রথম কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে বায়ার রিকুয়েষ্ট কিভাবে ভূমিকা পালন করতে পারে?

উত্তরঃ প্রথম কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই বায়ার রিকোয়েষ্ট কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে। আমি বর্তমানে টপ রেটেড সেলার কিন্তু ৬ বছর আগে আমার প্রথম ২টি ক্লাইন্ট থেকে আমি প্রায় ১০টি অর্ডার পেয়েছিলাম এবং দুটি ক্লাইন্টই পেয়েছিলাম বায়ার রিকোয়েষ্ট থেকে। এরকম অনেক সেলার নতুন অবস্থায় বায়ার রিকোয়েষ্ট থেকে প্রথম অর্ডার পেয়েছে এবং এখনও পাচ্ছে, আশা করি ভবিষ্যতেও পাবে। নতুনদের জন্য বায়ার রিকোয়েষ্ট একটি আদর্শ জায়গা।

৮) প্রশ্নঃ সামনে যতগুলো বায়ার রিকোয়েষ্ট আসবে সবগুলোতেই কি অফার সেন্ড করা যাবে?

উত্তরঃ হ্যাঁ, আপনি চাইলে সবগুলোতেই অফার সেন্ড করতে পারেন। তবে মনে রাখবেন প্রতিদিন ১০ টার বেশি অফার পাঠাতে পারবেন না। তাছাড়া বায়ারের রিকোয়ারমেন্ট ভালোভাবে পড়ে নিবেন। যদি কাজটি আপনি করতে পারেন, শুধুমাত্র তখনই অফার পাঠাবেন। অন্যথায়, কাজ পেয়ে গেলেও ঝামেলায় পড়তে হবে।

৯) প্রশ্নঃ নতুন বায়ার রিকোয়েষ্ট আসলে নোটিফিকেশন আসবে এমন কোনো পদ্ধতি আছে?

উত্তরঃ না, এখনও পর্যন্ত ফাইভার এমন কোনো অপশন চালু করেনি। আপনাকে কষ্ট করে ম্যানুয়ালী মোবাইল কিংবা কম্পিউটার থেকে বার বার চেক করতে হবে নতুন বায়ার রিকোয়েষ্ট এসেছে কিনা।

১০) প্রশ্নঃ বায়ার রিকোয়েষ্ট যে বায়ার সাবমিট করেছে তার প্রোফাইল বা ইউসারনেম দেখার কোনো পদ্ধতি আছে?

উত্তরঃ হ্যাঁ, আমার আমার জানামতে একটি ব্রাউজার প্লাগিন আছে সেটা দিয়ে দেখা যাবে, কিন্তু আমি এগুলো রিকমেন্ড করছি না। যদিও প্লাগিনটা আমি নিজে চেক করেছি এবং ঝামেলা হওয়ার মতো তেমন কিছুই খুঁজে পাইনি, তবুও ফাইভারের সাথে আমি কোনো ট্রিক করার পক্ষপাতী নই।

১১) কিভাবে বায়ার রিকোয়েষ্টে অফার পাঠালে ভালো হয় কিংবা কি কি বিষয় খেয়াল রাখতে হয়?

উত্তরঃ এটি একটি কমন এবং বহুল জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন। এই উত্তরটা একটু বিস্তারিত দেওয়ার চেষ্টা করবো এবং এই উত্তরটা দেওয়ার মাধ্যমেই লেখাটি শেষ করবো।
বায়ার রিকোয়েষ্ট অফার পাঠানোর ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় খেয়াল রেখে আপনার অফারটি অনেক সুন্দর এবং বায়ারের কাছে অধিক গ্রহনযোগ্য করে তুলতে পারেন। আমি সরাসরি কোনো বায়ার রিকোয়েষ্ট এর অফার ইংরেজিতে লিখে দিচ্ছি না। কিন্তু যথাসম্ভব সম্পূর্ণ প্যাটার্নটা সুন্দরভাবে আলোচনা করে দিচ্ছি। কারন, ইংরেজিতে সম্পূর্ণ নমুনা দিয়ে দিলে অনেকেই আছে হুবহু সেটা কপি করে কিংবা ছোট খাটো পরিবর্তন করে অফার সেন্ড করা শুরু করে দিবে। যাই হোক, নিম্নের ধাপগুলো অনুসরন করুনঃ
  • সর্বপ্রথমে বায়ার রিকোয়েষ্টে বায়ারের রিকোয়ারমেন্ট এর বিস্তারিত লেখাটা মনযোগ দিয়ে পড়ুন। বুঝতে সমস্যা হলে দরকার হয় একাধিকবার পড়ুন। কিন্তু না বুঝে দ্রুত অফার পাঠাতে যাবেন না।
  • এরপর অফার পাঠানোর জন্য সর্বপ্রথম বায়ারের কাজের সাথে আপনার যে গিগটার সব থেকে বেশি সামঞ্জস্য রয়েছে সেটা সিলেক্ট করুন।
  • এবার অফার ডেসক্রিপশনে কিছু লেখার পূর্বে খেয়াল করুন বায়ার তার ডেসক্রিপশনে কোনো কোড কিংবা লেখা দিয়েছে কিনা। কিছু কিছু বায়ার তার কাজের ক্ষেত্রে বলে দেয় যে, তাকে অফার সেন্ড করার আগে নির্দিষ্ট কোড কিংবা লেখাটা লিখতে হবে। এটার মাধ্যমে বায়ার নিশ্চিত হতে চায় যে আপনি তার লেখাটা ভালোভাবে পড়েছেন। যেমন ধরুন একটা লোগো ডিজাইন এর কাজে বায়ার বলে দিয়েছে যে, “Logo Design” কথাটা রাখতে হবে। এক্ষেত্রে অবশ্যই কোনো লেখা শুরু করার আগে আপনি “Logo Design” কথাটি লিখুন।
  • এবার মূল ডেসক্রিপশন শুরু করার আগে বায়ারকে “Hi” “Hello” দিয়ে শুরু করুন। বায়ার যদি ডেসক্রিপশনে তার নিজের নাম উল্লেখ করে, তাহলে নাম ধরে সম্মোধন করুন। কিন্তু Sir, Madam, Dear, Brother, Sister এসব ব্যবহার না করাই ভালো। আমি দেখেছি অধিকাংশ বায়ার এগুলোতে কমফোর্ট ফিল করে না। নাম ধরে ডাকলে কমফোর্ট ফিল করে কিন্তু নাম না জাললে কিছু সম্মোধন না করে সিম্পলি “Hi” অথবা “Hello” লিখুন।
  • এবার মূল লেখা শুরু করুন। শুরুতেই বায়ারের ডেসক্রিপশন পড়ে আপনার যদি কাজের বিষয়ে কোনো প্রশ্ন থাকে, প্রশ্নটি করে ফেলুন। যদি প্রশ্নটি যুক্তিযুক্ত হয় তাহলে বায়ারের ইম্প্রেশন তৈরী হবে আপনার প্রতি এবং এটা কাজ পাওয়ার জন্য একটা পজিটিভ সাইন।
  • এবার যদি প্রশ্ন না থাকে এবং আপনি পুরো কাজটি বুঝতে পারেন, তাহলে ছোট্ট করে দুই লাইনের মধ্যে কাজটি কিভাবে করবেন এবং কি করে কাজটি সুন্দরভাবে শেষ করবেন তার একটু ধারনা দিতে পারেন। এতে বায়ারের কনফিডেন্স বাড়বে আপনার উপরে। এটা বেশ ভালো একটি প্রাকটিস।
  • এবার আর কোনো কথা না বাড়িয়ে নতুন একটা প্যারায় সরাসরি কাজের জন্য আপনার কত প্রাইস লাগবে এবং কতদিন সময় লাগবে সেটা উল্লেখ করুন। এক্ষেত্রে, অনেকে চিন্তা করে বায়ার তার রিকোয়েষ্টে ৫ ডলার সিলেক্ট করেছিলো তার মানে ৫ ডলারই দিতে হবে, এমনটা চিন্তা করবেন না। আপনার যদি মনে হয় কাজটি ১০০ ডলারের, তাহলে ১০০ ডলার অফার করুন। চেষ্টা করুন সঠিক প্রাইস এবং ডেলিভারি সময় দিতে। এক্ষেত্রে চাইলে একটু কম অফার করতে পারেন, কিন্তু না বুঝে অতিরিক্ত কম কিংবা অতিরিক্ত বেশি দিবেন না। ভালো বায়ার হলে সহজেই বুঝতে পারবে যে, আপনি আনপ্রফেশনাল। সঠিক প্রাইস এবং ডেলিভারি টাইম দিতে হলে কাজটি ভালোভাবে বোঝা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
  • এবার প্রাইস দেওয়া যেহেতু শেষ বায়ার আপনার প্রাইস এবং সময় নিয়ে চিন্তুা করবে এবং অন্য কোনো অফারের সাথে কম্পেয়ার করার চেষ্টা করবে। কিন্তু বায়ারকে বেশি সুযোগ না দিয়ে তার মাইন্ড কনভার্ট করুন। বায়ারের কাজের সাথে মিল রেখে পূর্বে করেছেন এমন কোনো কাজের স্যাম্পল থাকলে শো করুন। নতুনরা পূর্বে কাজ না করলেও অনেকগুলো স্যাম্পল বানিয়ে রাখবেন এবং সেখান থেকে বায়ারের কাজের সাথে মিল রয়েছে এমন কোনো কাজের স্যাম্পল শো করতে পারেন। কোয়ালিটি কাজের স্যাম্পল হলে বায়ার এখান থেকেই আপনার সাথে কাজের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলতে পারে।
  • এবার নতুন এবং শেষ প্যারায় বায়ারের কোনো প্রশ্ন থাকলে আপনাকে জানাতে বলবেন এবং আপনি তার সাথে কাজ করতে আগ্রহী সেটা জানিয়ে শেষ করবেন। পুরো বিষয়টি আমি একটু বিস্তারিত বলেছি, তাই মনে হতে পারে অনেক কিছু। কিন্তু, এখানে খুব বেশি কিছু না, তাই খেয়াল রাখবেন অফারের লেখা যেন অনেক লম্বা হয়ে না যায়।
  • এবার নিচের সেকশন থেকে কি কি সার্ভিস বায়ার পাবে তার লিষ্টগুলোতে সঠিক অপশনগুলো সিলেক্ট করে দিতে পারেন।
  • সর্বশেষে, অফারটি সেন্ড করার আগে সবকিছু ঠিক আছে কিনা ভালোভাবে চেক করে নিবেন। বিশেষ করে গ্রামার কিংবা বানান ভুল আছে কিনা এগুলো চেক করে নিবেন। এবং ধন্যবাদ অথবা রিগার্ডস দিয়ে আপনার নাম দিয়ে শেষ করবেন। আপনার প্রোফাইলের উইসারনেম না দিয়ে আসল নাম দিবেন, যাতে ক্লাইন্ট নাম ধরে সম্মোধন করতে পারে।
উপরোক্ত বিষয়গুলো মেনে এবং খেয়াল রেখে অফার পাঠালে আপনার কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়ে যাবে। কিন্তু খেয়াল রাখবেন বর্তমানে মার্কেটে প্রচুর কম্পিটিশন তাই ধৈর্য্য না হারিয়ে, সঠিক পদ্ধতিতে চেষ্টা করতে থাকবেন। ইন শাহ্ আল্লাহ্ সফলতা আসবেই। সবার জন্য শুভ কামনা রইলো।

 

Post Credit: Rasel Khondokar

Fiverr Buyer রিকুয়েস্টে কি লিখবো?

ফাইভারে নতুন প্রোফাইল এবং গিগ তৈরি করে পাবলিশ করার পর সেটা সার্চ লিস্টে শো করতে কম বেশি সর্বোচ্চ ৭২ ঘণ্টা সময় লাগে। তবে ভাগ্য ভাল হলে অনেকের টা সাথে সাথেই সার্চ রেজাল্টে চলে আসে। সার্চ রেজাল্টে আসার পর সেটা রেঙ্কিং ঠিক করা এবং সেখান থেকে প্রথম অর্ডার পাওয়ার জন্য একটু বেশিই অপেক্ষা করা লাগে। কারো জন্য সেই অপেক্ষা ১-২ দিন, কারো ১০-১৫ দিন বা কারো হয়তো ৬ মাসের বেশি। সব কিছু আপনার ভাগ্য এবং পারিপার্শ্বিক অন্যান্য বিষয় মিলে বিবেচিত হয়।

আপনি ইচ্ছে করলেই এতদিন অপেক্ষা না করেও যেদিন গিগ পাবলিশ করেছেন সেদিন থেকেই হয়তো আপনার অর্ডার পাওয়া শুরু করতে পারেন। আর সেটা হল Buyer Request এ Apply করার মাধ্যমে। আমার প্রথম অর্ডার Buyer Request থেকেই পেয়েছিলাম। Buyer Request এ কিভাবে Apply করবেন সেটা জানার জন্য ইউটিউবে অসংখ্য ভিডিও আছে। একটু খুঁজে দেখে নিতে পারেন। How to apply buyer request in fiverr লিখে সার্চ দিলেই হবে। তবে সেই ভিডিও গুলোতে যে জিনিসটা শিখানো হয় সেটা হল নিজে ফেক বায়ার সেজে ফেক জব পোষ্ট করা এবং অন্য সেলারদের রেসপন্স থেকে ম্যাসেজ লিখার আইডিয়া কপি করা। আমার কাছে এটা ফালতু একটা বিষয় মনে হয়। আমি নিজে এরকম বায়ার রিকুয়েস্ট পেলে Apply করার পর যদি দেখি সে একজন নতুন সেলার, আমি তার আইডিতে রিপোর্ট মেরে দেই।

Buyer Request এ ম্যাসেজ লেখা নতুনদের জন্য বিরাট একটা সমস্যা! আমি নিজেও যখন নতুন ছিলাম তখন অনেক কিনফিউসনে থাকতাম এই বিষয় নিয়ে। তাই নতুনদের জন্য কিছু লিখলাম নিজের অভিজ্ঞতা থেকে। আশাকরি অনেকের উপকারে আসবে।

প্রথমে বলি বায়ার রিকুয়েস্ট পাবেন কখন?

সাধারনত বাইরের দেশে সকালে, দুপুরে, সন্ধায় বায়াররা জব পোষ্ট করে। সেই অনুযায়ী ওদের সকাল মানে আমাদের সন্ধ্যা ৬-৯ টা, ওদের দুপুর বা লাঞ্চ আওয়ার মানে আমাদের রাত ১-৩ টা, ওদের সন্ধ্যা বা রাত মানে আমাদের সকালে ৯-১১ টা। এই সময় গুলো ছাড়াও অন্য সময়েও ( রাত ৮ টা থেকে রাত ৩.০০ – ৩.৩০ পর্যন্ত এবং ভোর ৬.০০ টা থেকে সকাল ৯.০০ টা এবং দুপুর ১২.১৫ থেকে ১.০০ টা পর্যন্ত ) দেখতে পারেন যদি কোন Buyer Request পাওয়া যায়।

এবার আসি বায়ার কে কি ম্যাসেজ লিখবেন সে বিষয়ে। বায়ার রিকুয়েস্টে কখনোই রবোটিক টাইপ কিছু লিখবেন না। মানে টেক্সট পড়লেই যেন মনে না হয় যে এটা রোবট লিখছে। এরকম রিকুয়েস্ট হাজারটা পাঠালেও লাভ হবে না।

সবার আগে মনোযোগ দিয়ে বায়ার কি লিখেছে সেটা পড়ুন। সে কি কাজ করাতে চাচ্ছে সেটা আগে বুঝুন। আপনি সেই কাজ ভাল মতো পারেন কিনা সেটা দেখুন। কাজ টি তার কতদিনের মধ্যে লাগবে সেটা দেখুন। সব কিছু দেখে যদি বুঝেন যে আপনি পারবেন তাহলে এবার রিকুয়েস্টে এপ্লাই করেন।

কি লিখবেন?

এমন কিছু যেটা আর বাকি ১০ জনের থেকে আলাদা। এমন কিছু যেটা চোখে পড়া মাত্র রবোটিক মনে হবে না। এমন কিছু যেটা পরে বায়ার আপনার প্রোফাইলে আসতে বাধ্য হবে। যেটা দেখে মনে হবে আপনি আসলেই বায়ারের কি রিকুয়েস্ট ছিল সেটা মনোযোগ দিয়ে পড়েই তার কাজের জন্য এপ্লাই করেছেন।

এগুলোর যথাযথ না থাকলেই বায়ার আপনার পাঠানো প্রপোজাল না পড়েই বাদ দিয়ে দিবে। কারন আপনি বাকিদের মতই একই ধরনের মুখস্ত করা কমন লেখা লিখছেন।

নিচের Buyer Request টি খেয়াল করেন-

I am interested in preparing a two-sided brochure that contains a conference schedule, map, and notes section. I have example design. Can you turn this around in one-two days in psd format?

এখানে বলা হচ্ছে যে তার ডাবল সাইডের একটা Brochure ডিজাইন লাগবে কোন একটা কনফারেন্স শিডিউল এর জন্য এবং সেটা তার ১/২ দিনের মধ্যেই লাগবে। সাথে সে একটা স্যাম্পল ডিজাইন এড করে দিয়েছে যেটা দেখে আপনি আইডিয়া পাবেন তার কি রকম ডিজাইন পছন্দ। তার ডিজাইনের সোর্স ফাইল লাগবে psd ফরমেটে।

এখন আপনি কি লিখবেন?

Hi Sir/Madam, I am তমুক। I can do your work. please give me the order. I am new please give the order. I will satisfy you with my work. হেন তেন হাবি যাবি ব্লা ব্লা ব্লা… লাভ নাই। এভাবে লিখি বলেই ঘোড়ার ডিম পাই। কাজ আর পাই না।

আপনি লিখতে পারেন এভাবে…

Hi, I just saw your job post that you are looking for a DOUBLE Side BROCHURE for your conference Schedule. I have seen your attachment. I can make that brochure design within a FEW HOURS in PSD Format. And I will charge (আপনার বাজেট লিখবেন) for that. If its ok for you then please INBOX ME for further discussion. I will be happy to help you. Here’s my portfolio: (আপনার পোর্টফলিও লিঙ্ক দিবেন) Thank you.

এরকম ভাবে লিখলে বায়ার বুঝবে যে আপনি আসলেই তার লিখা ভাল মতো পড়েছেন। তখন সে আপনাকে নক করতে বাধ্য যদি আপনার কপাল ভাল হয়। আপনার লেখায় প্রধান যে বিষয় গুলো সেগুলো Capital Letter এ লিখে দিবেন যেমন টা আমার উপরের লেখায় আছে। তাতে মেইন জিনিস গুলো বায়ারের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে। যেমন- সময়, বাজেট, কি ডিজাইন করবেন, আপনাকে ইনবক্স করতে বলা এসব জিনিস Capital করে দিবেন।

আরেকটা সমস্যা হল ফাইভারে বায়ার রিকুয়েস্ট বেশিক্ষণ থাকে না। তাই এত কিছু লিখে সাথে সাথে সেন্ড করা সম্ভব হবে না। তাই আপনি আগে থেকেই এরকম ৩/৪ টা ডেমো টেক্সট লিখে ওয়ার্ড ফাইলে সেভ করে রাখতে পারেন। রিকুয়েস্ট পড়ে সেই মতো শুধু ডিজাইনের নাম আর সময় বা বাজেট এগুলো পরিবর্তন করে সেন্ড করে দিবেন কপি পেস্ট করে। কিভাবে সেন্ড করবেন সেটার জন্য ভিডিও দেখার কথা শুরুতেই বলেছিলাম।

তবে একই টেক্সট এক নাগারে অনেক দিন ব্যাবহার করবেন না। লেখার ধরন চেঞ্জ করবেন। একই কথা অন্য ভাবে ঘুরায় লিখে নতুন করে আবার ৩/৪ টা তৈরি করবেন।

বায়ার কে Sir/ Madam কিছু বলার দরকার নাই। সে আপনার Boss না যে তাকে Sir/Madam ডেকে ডেকে মুখে ফেনা তুলে ফেলবেন। Hi বা Hi there বা Hello দিয়ে শুরু করতে পারেন। বায়ার কে Boss নয় বন্ধুর মতো ভাবুন। তাহলে কাজ করতে সুবিধা হবে।

সবশেষে বলবো ইংলিশে ভাল হতে হবে। ইংলিশ বোঝা এবং ইংলিশে লেখার জন্য যত টুক ভাল হওয়া প্রয়োজন ঠিক ততটুকই ভাল হতে হবে। তার চেয়ে বেশি হতে পারলে আরও ভাল। কারন আপনি সুন্দর বায়ার রিকুয়েস্ট লিখলেন কিন্তু তাতে ১০১ টা গ্রামাটিকেল ভুল করে আছেন। তখন কোন লাভ হবে না কিন্তু। বায়ার আপনার ভুল ইংলিশ দেখেই দৌড় দিবে সে আপনি তারে কাজ মাগনা করে দেয়ার অফার ই দেন না কেন! সো ইংলিশ এখানে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

আরেকটা কথা আমি যে ডেমো টেক্সট লিখে দিলাম এটাই আবার সবাই কপি পেস্ট করে দেয়া শুরু করবেন না কিন্তু।  এটার মতো করে নিজের ব্রেইন কাজে লাগিয়ে নিজের মতো করে কিছু লিখবেন।

সব কিছু আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে লেখা। সো ভুল থাকাটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। কমেন্ট বক্স তো খোলাই আছে…লিখতে পারেন!

লেখাটি ভাল লাগলে অবশ্যই শেয়ার করুন যাতে অন্যরাও কিছু শিখতে পারে।

Post Credit: Mahmudul Hasan

বায়ার রিকুয়েস্ট সমাচার

আসসালামুয়ালিকুম। আশা রাখছি সবাই ভালো আছেন।
যারা ফাইভারে একেবারে নতুন তাদের জন্য এই পোস্টটি দেয়া। নতুনদের মাঝে ৩ টা প্রশ্ন খুবই কমন।
  1. বায়ার রিকুয়েস্ট আসে না।
  2. বায়ার রিকুয়েস্ট কিভাবে পাঠাবো?
  3. গিগ র‍্যাঙ্ক করবো কিভাবে?
এছাড়াও আরও অনেক ধরনের প্রশ্ন রয়েছে।আজকে মুলত ১ ও ২ নম্বর পয়েন্ট নিয়ে আলোচনা করবো। ৩ নম্বরটি আরেকদিন আলোচনা করবো ইন -শাআল্লাহ । চলুন শুরু করা যাক।
Don’t show Buyer Request?
সর্ব-প্রথম খুব ভালোভাবে এনালাইসিস করে ,সময় নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন ৭ টা গিগ তৈরি করবেন। গিগ তৈরি করার সময় category & sub category নামে ২টি অপশন থাকে। যে কোন একটি গিগে category ঠিক রেখে sub category তে গিয়ে OTHER option select করবেন।
আশা রাখছি এরপর থেকে বায়ার রিকুয়েস্ট আশা শুরু করবে। এর সাথেই আরেকটি প্রশ্ন এসে যায় যে, বায়ার রিকুয়েস্ট টা আসে কখন? ধরা বাধা কোন নিয়ম এখানে নেই। তবে অনেক অভিজ্ঞ বড় ভাইয়া এবং আপুদের মতে ( যারা এই ফিল্ডে অনেক দিন ধরে আছেন) রাত ৮ টা থেকে রাত ৩.০০ – ৩.৩০ পর্যন্ত এবং ভোর ৬.০০ টা থেকে সকাল ৯.০০ টা এবং দুপুর ১২.১৫ থেকে ১.০০ টা পর্যন্ত । চেষ্টা করবেন এই সময়ের মাঝে এক্টিভ থাকার।
How to send an effective buyer request?
বায়ার রিকুয়েস্ট আসলো। এখন আপনাকে বায়ার রিকুয়েস্ট তো পাঠাতে হবে। দেখুন নতুন হিসেবে direct order পাওয়াটা এখন অনেক কষ্ট সাধ্য একটি ব্যাপার। তাই গিগ রেঙ্ক করার জন্যে এবং অধিক সেল পাওয়ার জন্যে বায়ার রিকুয়েস্ট এর কোন বিকল্প নেই। Effective buyer request পাঠাতে হলে কিছু বিষয় মাথায় রাখা জরুরি।
Read the project description carefully
সর্ব প্রথম buyer এর project description টা খুব ভালোভাবে পড়তে হবে। হ্যাঁ খুব ভালো ভাবে পড়তে হবে। প্রয়োজনে ২-৩ বার পড়বেন। Buyer কি চেয়েছে সেটা ভালোভাবে বোঝার চেষ্টা করবেন। এবং সে অনুযায়ী তার প্রয়োজন গুলো উল্লেখ করে লিখবেন । তাহলে আশা রাখা যায় আপনি নক পাবেন।
Mention there name/ don’t use sir,dear
প্রতিটি মানুষের কাছে তার নিজের নামটি খুব প্রিয়। নিজের সাথেই মিলিয়ে দেখবেন যখন আপনাকে কেও আপনার নাম ধরে ডাকে তখন মনের অজান্তেই একটা ভালো লাগা কাজ করে। এখানে যার জন্য কাজ করতে চলছেন সে আপনার বস না। তাই sir/dear কথাটা থেকে বিরত থাকবেন। আপনি যখন তার নাম উল্লেখ করবেন তখন সে আপনার প্রতি একটা আলাদা ইম্প্রেসন তৈরি করতে পারে। তাই এটা চেষ্টা করে দেখতে পারেন।
Keep your description clear & concise
Buyer এর পোস্ট ভালোভাবে পড়ার পর আপনি খুব clear ভাবে আপনার অফারটি লিখবেন। চেষ্টা করবেন নিজের কথা কম বলতে। শুধুমাত্র বায়ারের প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করবেন। অর্থাৎ I এর বদলে যত পারবেন you ,us,together এই type কথা লিখতে।
Mention the person and business name
আগেই বলেছি buyer এর নাম mention করবেন। যদি এর সাথে সাথে আপনি তার বিজনেস এর নামটাও উল্লেখ করেন তাহলে আলাদা সুবিধা পেতে পারেন। যেমন আমি একটি উদাহরনের মাধ্যমে বোঝানর চেষ্টা করছি। Like someone named David and asking for a logo for his eagle fitness club! you can start like:
HI DAVID . HAVE SEEN YOU ARE LOOKING FOR A PRO LOGO FOR YOUR EAGLE FITNESS, I WOULD BE GLAD TO MAKE THE DESIGN FOR YOU .তাই কাজের সাথে মিল রেখে আপনি এভাবে approach করতে পারেন।
Special Offer add
আপনি buyer কে কিছু special offer দিতে পারেন। যেমন ধরুন-
  • Unlimited revision
  • Free source file
  • Money-back guarantee
  • 100 % satisfaction
  • Friendly communication and many more
Specify your terms clearly
Buyer এর কাজটি আপনি কতদিনের মধ্যে এবং কত প্রাইসে করতে পারবেন সেটি উল্লেখ করতে পারেন।
Proofread your offer
অফারটি পাঠানোর পূর্বে সবকিছু ঠিকঠাক আছে কি না চেক করতে ভুলবেন না। কোথাও কোন grammatical mistake আছে কিনা, অফারের শেষে একটি Thanks উল্লেখ করেছেন কিনা এগুলো চেক করে নিবেন।
আমি এই formula use করে success পেয়েছি। বিশ্বাস করুন এভাবে যদি নিয়মিত buyer request পাঠাতে থাকেন তাহলে অবশ্যই সফল হবেন। এমন একটা সময় আসবে তখন buyer request পাঠানোর সুযোগ পাবেন না।
এছাড়াও Buyer request সম্পর্কে আরও ভালো ধারনা পেতে google ,youtube করতে পারেন । আমি একটি লিংক শেয়ার করছি আশা করি উপকারে আসবে। লেখাতে কথাও ভুল থাকলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন, সবার জন্য অনেক দোয়া এবং শুভকামনা রইল।
Post Credit: Ashikul

এখনো আপনার মনে কোন প্রশ্ন আছে? অথবা আমাদের থেকে কল পেতে চান?

তাহলে নিচের ফরমটি পুরন করুন, আমরা আপনার সাথে যোগাযোগ করবো, ইংশাআল্লাহ! আপনি আমাদেরকে ০১৭১৬ ৯৮৮ ৯৫৩ / ০১৯১২ ৯৬৬ ৪৪৮ এই নাম্বারে কল করতে পারেন, অথবা ইমেল করতে পারেন [email protected] এই ইমেলে, আমরা আপনাকে কোনভাবে সাহায্য করতে পারলে খুশি হব, ধন্যবাদ ।


    মাহবুবওসমানী.কম এর সার্ভিস সমূহঃ

    Leave a Comment

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

    This div height required for enabling the sticky sidebar
    Ad Clicks : Ad Views : Ad Clicks : Ad Views : Ad Clicks : Ad Views : Ad Clicks : Ad Views : Ad Clicks : Ad Views : Ad Clicks : Ad Views :