তরুণ উদ্যোক্তার হাজারকোটির সফলতা!

/
/
/
79 Views

চট্টগ্রামের মধ্যবিত্ত তরুণের হাজারকোটির স্টার্টাপ কোম্পানির উদ্যোক্তা হওয়ার গল্প।

২৭ বছর বয়সী চট্টগ্রামের মধ্যবিত্ত পরিবারের তাজবির হাসান, তার কোম্পানি Haltrip এর এখন অফিস আছে এমেরিকা, মালয়েশিয়া, কানাডা, ইন্ডিয়া, হংকং এবং বাংলাদেশে ৭টি। সর্বশেষ অফিসটি ১৫০০০ স্কয়ারফিটের। বিজনেস এক্সপান্ড করার জন্য ২৩ বছর বয়সেই ২২ টি দেশে গিয়েছেন, এখন পর্যন্ত ৩০টি দেশে ঘুরেছেন বিজনেসের কাজে নিজের যোগ্যতায়। MakeMyTrip এর মতই তার প্ল্যাটফর্ম কাজ করে, তবে তা শুধু এজেন্ট ও পার্টনাররা ব্যবহার করতে পারবে। তাদের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে কয়েকশ ট্রাভেল এজেন্ট যেকোন বিমানের টিকিট বুকিং করছে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই। ৫০০০ এর বেশি এজেন্সি তাঁদের বিটুবি ক্লায়েন্ট।

যারা ট্রাভেল ইন্ডাস্ট্রি বোঝে, তারা বুঝবে কয়েকশ ট্রাভেল এজেন্ট সপ্তাহে কি পরিমাণ রেভেনিউ জেনেরেট করতে পারে। তার সব অফিস মিলে কর্মকর্তা আছে ১৫০+. ডিজিটাল স্টার্টাপ হওয়াতে হিউম্যান রিসোর্সের চেয়ে হিউম্যান ক্যাপাসিটিকে তারা ম্যাক্সিমাইজ করেছে। তামিম ইকবাল তাঁদের ব্র্যান্ড এম্বাসেডর।

এই কোম্পানির বয়স দুবছর হয়নি, স্টোরি আরও অনেক আগেই শুরু।

২০০৬ সালে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে অনলাইনে আয় সংক্রান্ত বিষয়ে ঘাটাঘাটি শুরু করেন। গুগল এডসেন্স, ফ্রিল্যান্সিং এ ওয়েব ডিজাইন, সর্বশেষে ডিজিটাল মার্কেটিং। ২০০৯ সালে একটা আইটি ফার্ম শুরু করেন, যেটা তখন থেকেই বেসিসের মেম্বার। ২০১০ এ যখন দেশে ডিজিটাল মার্কেটিং গুটিকয়েক মানুষ বোঝে, তখন banglanew24.con এর এডিটরকে কনভিন্স করেন মেইল করে যে অনলাইন মার্কেটিং ছাড়া একটা অনলাইন নিউজপেপার দাড়াতে পারবেনা। এডিটর খোদ তাকে নিয়োগ দেন ডিজিটাল মার্কেটিং প্ল্যানার হিসেবে। ২০১১ সালে শুরু করেন পেমেন্ট গেটওয়ে কোম্পানি পেয়নেক্স, যা পরবর্তীতে ফ্লাইট বুকিং একটি প্ল্যাটফর্মের ইন্টার্নাল পেমেন্ট প্রসেসের জন্য ব্যবহার হয়। ২০১২ সালে সব কিছু নিয়ে কাজ আর ঘাটাঘাটি করতে করতে ডিজিটাল সার্ভিস, সার্ভিস প্ল্যাটফর্ম ইত্যাদি নিয়ে বেশ অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। তারপর ২০১২ তে শুরু করেন ফ্লাইট বুকিং প্ল্যাটফর্ম ট্রেভনেক্স, এই কোম্পানি দুবাইতে সেটাপের জন্য যান। সেখানে ২০১৩ সালে এক কনফারেন্সে পরিচিত হন রকেট ইন্টারনেটের এক প্রধানের সাথে কথা বলেন। এরপর বাংলাদেশে foodpanda নিয়ে আসেন। ২৩ বছর বয়সে ফুডপান্ডার কান্ট্রি ম্যানেজার হন।

ফুডপান্ডা থেকে বের হয়ে ফিউচার স্টুডিও নামে ভারতীয় এক ভ্যালু এডেড সার্ভিস কোম্পানিতে যুক্ত হন বাংলাদেশের প্রধান এবং একাউন্ট ডিরেক্টর হিসেবে। তাদের বিজনেস ছিল রবি সহ বিভিন্ন অপারেটরকে VAS সার্ভিস দেয়া। একই বছর ট্রেভনেক্স থেকে শেয়ার ছেড়ে দিয়ে এক্সিট নেন, এবং শুরু করেন করেন হালট্রিপ।

মার্চেন্ডাইজিং এ স্নাতক এই মানুষটা টেক ইন্ডাস্ট্রিতে সফলদের একজন!

আমার মনে আছে ২০১০ সালে বাংলানিউজে যখন উনি জব করেন, আমি আর উনি লোকাল বাসে ঝুলে ঝুলে উনার অফিসে গিয়েছিলাম। আর আজকে তার পজিশন তাকে বিএমডব্লিউ অফার করে।

তাকে টেক ইন্ডাস্ট্রিতে সবাই না চিনলেও ইন্ডাস্ট্রির মাথারা অনেকেই চেনেন। আমি অনেকবার বলেছি তরুণদের জন্য কোন ইভেন্টে তার স্টোরি শেয়ার করতে, তার উত্তরটাও শেখার, “আমি এলিওন চালিয়ে যদি বলি আমি এই বয়সে নিজের টাকায় কিনেছি, ইন্সপায়ার হওয়ার চেয়ে বেশি মানুষ জেলাস হবে। আমার পথ আটকাবে। এর চেয়ে আমি মন দিয়ে আমার বিজনেস এক্সপান্ড করি, এলিওন থেকে বিএমডব্লিউ বা মার্সিডিজে যাই, কাজ করি আর লাইফ এঞ্জয় করি, মানুষকে জানিয়ে কি লাভ?”

আমি অল্পকজন মানুষের দ্বারা ইন্সপায়ার্ড, তার মধ্যে উনি একজন।

ফুডপান্ডায় থাকা অবস্থায় তিনি কাস্টমার সার্ভিসে বসে কল রিসিভ করতেন, কাস্টমার কি চায় বোঝার জন্য। উদ্যোক্তাকে একদম সব লেভেলেই কাজ করতে হয়।

উদ্যোক্তা মানেই ১০০% মালিক নয়, উদ্যোক্তা সে যে একটা প্রতিষ্ঠানকে ছোট থেকে বড় করে তোলে, হউক তার ১% শেয়ার।

এই স্টোরির নাম হতে পারে ‘ফ্রিল্যান্সার থেকে উদ্যোক্তা’, হতে পারে ‘চট্টগ্রাম থেকে সারা বিশ্ব’, হতে পারে ‘তরুণ উদ্যোক্তার হাজারকোটির সফলতা’..

এক কথায় মেধা থাকলে দুনিয়ার সব কিছুই অর্জন করা যায়; বয়স, পারিবারিক অবস্থা, শিক্ষা কোন কিছুই মেটার করেনা!

সফল হউক দুনিয়ার সব তরুণ!

Written By: Shanjidul Sheban Shan

  • Facebook
  • Twitter
  • Google+
  • Linkedin
  • Pinterest

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

It is main inner container footer text