img

কর্ম জীবনের গপ্পো

/
/
/
525 Views

কর্ম জীবনের গপ্পো ০১ঃ

২০১০ সালের শেষের দিকে!

 
তখন সিটি কলেজে পড়ি, আব্বু মাসে ৫-৭ হাজার টাকা দিতো, একটা টিউশন করতাম, ওখানে পেতাম ৩০০০ টাকা।
 
ভালোই চলতো, তবে একটা অভাব থেকেই যেত, মনে হতো আরো ৪-৫০০০ টাকা হলে ভালো থাকা যাবে, একটু ভালো খাওয়া যাবে, ভালো জামাকাপড় কিনতে পারবো।
 
দেখতাম বড় ভাইরা কি যেন কাজ করে ইন্টারনেটে, তখন কম্পিউটার ছিলনা।
 
বাসায় কম্পিউটারের কথা বলার পর নেগেটিভ মন্তব্য, কম্পিউটার দিবেনা। জিদ ধরলাম নিজেই কিনবো।

 
১৫ দিন পর বাড়ি গেলাম, আম্মুর কাছ থেকে ৬ হাজার, নিজের কাছে ছিল ৬ হাজার, পাশের বাড়ির আন্টি থেকে ৪০০০, দূরে এক ফুফা থেকে ৫০০০ টাকা নিলাম ১ সপ্তাহ পর ফেরত দিবো বলে। এই ২১০০০ নিয়ে ঢাকায় আসলাম।
 
কিন্তু কম্পিউটার কিনতে গিয়ে দেখি মিনিমাম কনফিগারেশন (ডুয়েল কোর ) কিনতে হলে ২৬০০০ টাকা দরকার।
 
পড়লাম মহাবিপদে! এক ভাইকে কল দিলাম, আমার ৫০০০ টাকা দরকার এই বলে, যাক তিনি ফেরালেন না।
 
তার পরের দিন কম্পিউটার কিনলাম। তারপর ওই ভাইদের থেকে কাজ নিয়ে কাজ শুরু করলাম, একটা কাজ ছিলো টুইটারে ফলো আনফলো, সোশ্যাল মিডিয়ার কাজ যারা করেন তারা বুঝবেন।

কিছু চিরস্মরণীয় নেগেটিভ অভিজ্ঞতা।

 
ঘন্টায় ২০ টাকা দিত! তিনি মনে হয় ২ না ৩ ডলার করে পেতেন। 🙁 নিয়ম ছিল তাদের কম্পিউটারের দিকে তাকানো যেতো না, বিশেষ করে তাঁরা যখন কাজে বিড করে। 🙂 কাজের বাহিরে কিছু বলতেননা, আস্ক করলে বলতেন এইগুলো কি দরকার, প্রস্ন এড়িয়ে যেতেন, তালবাহানা দিতেন, বলতেন আমি জানিনা।
 
একজন বরিশাল, একজন কুমিল্লার ও একজন ফরিদপুরের ভাই ছিলেন, তাঁরা অনেক কিছুই জানতেন, কিভাবে বিড করে, কিভাবে প্রোফাইল করে, কিভাবে এজেঞ্ছি করে ওঁডেস্কে।
 
কিন্তু তাঁরা কিছুই আমাকে বলতেন না, সু কৌশলে এড়িয়ে যেতেন কিছু আস্ক করলে।
 
১ মাস কাজ করে বিল পেলাম ৬০০ টাকা। ৬০০ টাকার জন্য আমাকে কাজ করতে হয়েছে ৩০ ঘন্টা। মনের শান্তি, নেট বিল তো পেলাম।
 
এর মধ্যে ভাইকে রিকুয়েস্ট করলাম, রেটটা কিছু বাড়ান, নাহ! সে বাড়ালোনা। আরো অনেক নেগিটিভ কথা বললো।
 
কি আর করা, ২য় মাসে নিজে নিজে শুরু করলাম প্রোফাইল করা, কিছুই জানিনা, কি লিখবো প্রোফাইলে, কিভাবে ১০০% করবো? কিভাবে বিড করবো?
 
খুব চেস্টা করলাম, কিছুই পারলাম না, তখন সার্চ করতেও জানতাম না।
 
যাইহোক , ভার্সিটিতে এক বন্ধু পেলাম নাম “রুবায়েত” সে অনেক হেল্প করলো, অনেক কিছু বলে দিলো, প্রোফাইল ৬০% করলাম। করে বিড শুরু করলাম।
 
কোন মতে ২-৩ লাইন লিখে ২-৩ টা কপি পেস্টের কাজে বিড করলাম। বিড করলাম ৫০ সেন্টে, চিন্তা ছিল ভাই দেয় ২০ টাকা। ৫০ সেন্ট পেলে হবে ৪০ টাকা, মানে ডাবল!

আমার বিডে ক্লায়েন্ট রিপ্লাই দেয়?

 
এপ্লাই করে বসে ছিলাম, চিন্তাই ছিলোনা আমার বিডে রিপ্লাই আসবে, ৩ ঘন্টা পর অবাক করে দিয়ে দেখলাম ইয়াহু মেসেঞ্জারে ইমেল নোটিফিকেশন আসলো। রিপ্লাই দেখে আমার শরীরে কাঁপন ধরে গেলো।
 
 
যাই হোক সহজ কিছু সোশ্যাল মিডিয়া আর ডাটা এন্ট্রির কজা পেলাম, ওই কাজ গুলি শিখে যাওয়ার পর আমি হায়ার করলাম এক বন্ধুকে, বললাম আমি কাজ সার্চ করবো তুই এই সহজ কাজ গুলি করবি আমার কম্পিউটারে, সে রাজি হলো। শুরু হলো কাজ দেয়া 🙂
 
কাজ সার্চ করতে গিয়ে দেখলাম, অনেক SEO কাজ, চিন্তা করলাম কিভাবে শিখা যায় SEO। পেপারে বিজ্ঞাপন দেখলাম, আল হেরা SEO ভিডিও টিউটোরিয়াল, কিনে আনলাম মাল্টিপ্ল্যান থেকে। অনেক মনোযোগ দিয়ে কয়েক দিনে শিখে গেলাম অফ পেইজ এস ই ও। বিড করে কিছু কাজ ও পেয়ে গেলাম।
 
 
টার্গেট ছিল ৪-৫০০০ টাকা, প্রথম মাসে ব্যাংকে আসলো ১৮৪০০ টাকা  🙂 আলহামদুলিল্লাহ। 

এই পর্বের শিক্ষা

  • জীবনে চলার পথে সব জায়গায়ই নেগেটিভ মাইন্ডেড লোকজন বেশি পাবে।
  • নতুন কিছু শিখার চেস্টা চালিয়ে যেতে হবে।
  • নিজের চলার রাস্তা নিজকেই তৈরি করতে হবে।
  • মনের মধ্যে জেদ রাখতে হবে।

 

সতর্কতা!

২০১০ সালে ফ্রিল্যান্স মার্কেটপ্লেসে যথেষ্ট কাজ ছিলো, তাই আমি অল্প অভিজ্ঞতা দিয়ে কাজ পেতে তেমন সমস্যা হয়নি। বর্তমান পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বিপরীত।  শুধুমাত্র অভিজ্ঞ  ও ট্যলেন্টরাই অনলাইনে টিকে আছে। আমার জানামতে আমার পরিচিত বড়ভাই, যাদের দেখে এই লাইনে আসা, উনারা কেউই এখন আর এই কাজ করেন না। এই অভিজ্ঞতা আবার ভিন্ন, পরবর্তী আলোচনায় আনার চেস্টা করবো।

জানতে  ও জানাতে ভালো লাগে, তাই শুরু করলাম “কর্ম জীবনের গপ্পো”  আপনাদের ভালো লাগলে কন্টিনিউ করবো, কমেন্টে জানাবেন। অনেক কিছুই লিখা হয় নি, যেমন বড় ভাইদের রিসোর্স চুরি, কাজের জন্য বাসা পরিবর্তন, কথিত বস ধরা, টীম তৈরি, কোম্পানি তৈরি, বিভিন্ন প্রকারের শেয়ারিং টীম তৈরি, ইত্যাদি। আপনাদের আগ্রহ পেলে লিখার চেস্টা করবো।  ধন্যবাদ সবাইকে।

(চলবে)

  • Facebook
  • Twitter
  • Google+
  • Linkedin
  • Pinterest

4 Comments

  1. ভাই চরম দুঃখজনক এবং দুর্দান্ত অনুপ্রেরণা দায়ক। ক্লাউড লিভিং এর কমেন্ট ধরে আপনার সাইটে আসলাম। যাইহোক, আপনার এখান থেকে যে লাইনটা শিখলাম তা হচ্ছে, “নিজের চলার রাস্তা নিজকেই তৈরি করতে হবে।” এখানেই আমার সমস্যা। আমি এই আশায় বসে আছি যে কোন এক দেবদূত হয়ত আমাকে হাত ধরে টেনে তুলবে, তাই অনেক কিছু জেনেও কাজে লাগাচ্ছি না। আপনার সংক্ষিপ্ত স্টোরি পরে অনুপ্রাণিত হলাম। আশা করি কন্টিনিউ করবেন। ধন্যবাদ।

Leave a Reply

It is main inner container footer text